আখলাক অর্থ কি? আখলাকে হামিদা ও অর্থ কি

পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

5/5 - (1 vote)

আখলাক অর্থ কি – আখলাক বা চরিত্র একটি মানুষের সার্বাধিক বিষয় গুলোকে তুলে ধরে। আখলাক এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভালো কিংবা মন্দ বিচার করা হয়। মানুষের জীবনে আখলাক অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আখলাক শব্দের অর্থ হলো চরিত্র। মানুষের চরিত্র দ্বারা মানুষ কে চেনা যায় সবচেয়ে বেশি।

আমাদের আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো আখলাক কি ও কাকে বলে। যদি আপনি আখলাক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আজকের আর্টিকেল টি শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করুন।

আখলাক অর্থ কি 

আখলাক শব্দ টি হলো আরবী ভাষার একটি শব্দ। আখলাক শব্দের বাংলা শাব্দিক অর্থ হলো – চরিত্র, স্বভাব, গুন ইত্যাদি। মূলত কোনো মানুষের গুন বা স্বভাব কে বোঝাতে আখলাক শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

আখলাক কাকে বলে

আখলাক শব্দের অর্থ আমরা ইতিপূর্বেই জেনেছি। মূলত একটা মানুষের কর্মকান্দ, স্বভাব, আচরণচ চিন্তা চেতনা ও মানসিক অবস্থা কে একত্রিত অবস্থায় আখলাক বলা হয়। আরো সহজ করে বললে – কোনো মানুষের আচার-আচরণ, চিন্তা ভাবনা ও স্বভাব কে আখলাক বলা হয়।

আখলাক খারাপ হোক অথবা ভালো আখলাক মূলত দুটি প্রকারের মধ্যে পরে। 

আখলাক কত প্রকার কি কি

মানুষ ভালো ও খারাপ রয়েছে। ভালো ও খারাপ মানুষ কে বোঝাতে আখলাক কে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেগুলো হলো – 

  1. আখলাকে হামিদা ( উত্তম চরিত্র)
  2. আখলাকে যামিমাহ ( খারাপ চরিত্র)

মানুষের মধ্যে যেসব কর্মকান্ডগুলি খারাপ কোনো কিছুর প্রতি নির্দেশ করে সাধারণত সেসব কর্মকান্ড কে আখলাকে যামিমা বা খারাপ চরিত্র এর ভাগে ভাগ করা হয়। অন্যদিকে উত্তম চরিত্র কে প্রশংশনীয় চরিত্র হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।

আখলাকে হামিদা

আখলাক অর্থ কি, আখলাকে হামিদা অর্থ কি, আখলাকে যামিমাহ অর্থ কি, আখলাকের গুরুত্ব,

আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র বা প্রশংশণীয় গুনাবলী। সাধারণত ভালো আচরণ গুলোকে আখলাকে হামিদা বলা হয়ে থাকে। ইসলামেও আখলাকে হামিদা এর উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। 

আখলাকে হামিদার বৈশিষ্ট

উত্তম চরিত্রের অধিকারি ব্যাক্তির কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরা হলো –

  • আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি আচরণ – মহান আল্লাহ তায়ালার বিধি বিধান ও রাসূল এর আদেশ ও উপদেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করা।
  • নিজের সাথে সদাচরণ  – নিজের সাথে সদ আচরণ করতে হবে। যেমন – নিজে অসুস্থ হয়ে পরলে মেডিসিন খেতে হবে।
  • অন্যের সাথে সদাচরণ – মিথ্যা না বলা কথার মাধ্যমে বা কাজের মাধ্যমে অন্য কাউকে কষ্ট না দেয়া।
  • জীব – জানোয়ারের সাথে আচরণ – জীব ও জানোয়ারের সাথে উত্তম ব্যবহার করা।

আখলাকে যামিমাহ

আখলাক অর্থ কি, আখলাকে হামিদা অর্থ কি, আখলাকে যামিমাহ অর্থ কি, আখলাকের গুরুত্ব,

আখলাকে যামিমাহ একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ খারাপ চরিত্র বা নিন্দনীয় চরিত্র। সাধারণত আখলাকে যামিমাহ বলতে খারাপ চরিত্রকে বোঝানো হয়। এই চরিত্রের মানুষকে আল্লাহ ও সমাজ ঘৃণা করে। 

আখলাকে যামিমাহর বৈশিষ্ট্য

খারাপ চরিত্রের মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:

  • মিথ্যা বলা: আখলাকে যামিমাহর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মিথ্যা বলা। এটি মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে এবং সমাজে তার সম্মান নষ্ট হয়ে যায়।
  • প্রতারণা করা: প্রতারণা করাও একটি অত্যন্ত খারাপ কাজ। প্রতারণাকারী মানুষের প্রতি মানুষের ভরসা কমে যায়। এবং সমাজের মানুষ তাকে ঘৃণা করে।
  • হিংসা: হিংসা মানুষের মনকে নষ্ট করে দেয় এবং তাকে অন্যায়ের পথে নিয়ে যায়। হিংসাত্মক মানুষ সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
  • লোভ: লোভী মানুষ নিকৃষ্ট কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। লোভী মানুষকে সমাজে ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট বলে বিবেচনা করা হয়।
  • গীবত (পরনিন্দা):  ইসলামের দৃষ্টিতে গীবত করা মহাপাপ। গীবতকারি অন্যের ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজতে থাকে এবং তাদের সম্মান নষ্ট করে।
  • অহংকার: অহংকারী মানুষ নিজেকে অন্যদের চেয়ে উঁচু মনে করে এবং অন্যদেরকে ছোট করে দেখে। অহংকারী মানুষকে কেউ পছন্দ করে না।
  • ক্ষতিকর আসক্তি: মাদকাসক্তি, জুয়া খেলা, অশ্লীলতা ইত্যাদি ক্ষতিকর আসক্তি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব আসক্তি একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে।

আখলাক এর গুরুত্ব

ইসলামে আখলাক কে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। একটি মানুষের মনের সকল বৈশিষ্ট গুলো আখলাক এর মাধ্যমে প্রকাশ ঘটে। উত্তম চরিত্র এর মানুষ সব স্থানে প্রশংশিত হয়। মানুষের মনে সকল দুষ্ট কিংবা সৎ চিন্তা মনের মাধ্যমে ঘটে। একটি মানুষের বাহ্যিক দিক বিবেচনা করে তার চরিত্র যাচাই করা যায় না।

নিজের চরিত্র সুন্দর করার জন্য মনের মধ্যে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। যদি অন্তরের চিন্তা কর্ম মানুষ কে সাহায্য করে, সমাজ কে সুন্দর করে তবেই বলা যাবে সেটা উত্তম চরিত্র। আখলাক দুই ধরণের হয় মানুষের মাঝে সেগুলো হলো –

  1. জন্মগত চরিত্র
  2. কারো চরিত্র দেখে তার মত চরিত্র

যদি জন্ম থেকেই উত্তম চরিত্র থাকে তাহলে তো চিন্তার কোনো কারণ এই নেই তবে জন্মগত ভাবে ভালো চরিত্রের অধিকারি না হলেও মানুষ চরিত্রবান মানুষ কে অনুসরন করার মাধ্যমে নিজেকে উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে গঠন করতে পারে।

📌 আরো পড়ুন 👇

খারাপ চরিত্রের অধিকারি মানুষ আল্লাহ এর কাছেও নিকৃষ্ট বান্দা হিসেবে মনোনিত হয়। তাই আখিরাত ও সমাজে সুন্দর ভাবে বেচে থাকার জন্য নিজের আখলাক পরিবর্তন করা অনেক বেশি জরুরি।

আখলাক সম্পর্কে আমাদের মতামত 

আখলাক অর্থ কি – আর্টিকেলে আমরা আখলাক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরলাম। মানুষের মাঝে খারাপ ভালো দুই চরিত্র বিদ্যমান থাকে। তবে মানুষ নিজে চাইলেই সে তার চরিত্র বা আখলাক পরিবর্তন করতে পারে।

আখলাক সম্পর্কে যদি প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে কমেন্ট করুন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। এতক্ষন ডিয়ার টেক ব্লগের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment