বিশ্বগ্রাম কি? বিশ্বগ্রাম কাকে বলে? বিশ্বগ্রামের সুবিধা ও অসুবিধা

পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

5/5 - (1 vote)

বিশ্বগ্রাম বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশ্বগ্রাম এমন এক ধরনের স্থান যেখানে পুরো বিশ্বের মানুষ ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে অপরের সাথে কানেক্ট থাকে। বিষয় টা অনেক টা একটা গ্রামের মতো। সাধারনত একটা গ্রামে প্রতিটি মানুষ একে অপরের সাথে কানেক্ট বা যোগাযোগ করতে পারে। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে এটা পুরো বিশ্ব জুরে  করা যাচ্ছে।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষ সহজেই ইন্টারনেটে লগ ইন করার মাধ্যমে বিশ্বগ্রামে যুক্ত হতে পারে। আরো যদি সহজ ভাবে বলি – সাধারনত মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে নিজের গ্রামের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে কিন্তু কিছু দূরে হলে যোগাযোগ করা দুস্কর হয়ে পরে। কিন্তু বিশ্বগ্রাম বলা হয় তাকে যেখানে আপনি সেকেন্ড এর মধ্যে বিশ্বের যে কোনো দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা করতে পারবেন।

অর্থ্যাত ইন্টারনেটে যে সব মানুষ গুলো কানেক্ট থাকবে তারা সবাই বিশ্বগ্রামের মধ্যে চলে আসবে। আর এখানে যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা, কেনাকাটা সব অনেক কিছুই বর্তমানে করা সম্ভব।

তো বন্ধুরা , আমাদের আজকের আর্টিকেল টি মূলত বিশ্বগ্রাম নিয়ে। যারা বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ও বুঝার জন্য মন মতো একটা আর্টিকেল পাচ্ছেন না তারা চাইলে এটা শেষ পর্যন্ত পড়তে পারেন। বিশ্বগ্রামের অদ্যোপান্ত তুলে ধরছি আপনাদের সামনে।

Table of Contents

বিশ্বগ্রাম কি

বিশ্বগ্রাম কি

বিশ্বগ্রাম হলো একই সময়ে বিশ্বের সকল মানুষ গুলো একটা ছোট্র স্থানে কানেক্ট থাকা। বিশ্বের যে সকল প্রান্তে ইন্টারনেট সেবা আছে তাদের কে ছোট একটা আয়তনের মধ্যে নিয়ে আসা। উদাহরন স্বরুপ আমরা ফেসবুক কে যদি দেখি তাহলে দেখা যাবে যে আমরা যখন ফেসবুকে লগ ইন করি তখন অল্প সময়ের মধ্যে সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারি কোনো সমস্যা ছাড়াই। এখন, এই ফেসবুকের মধ্যে যারা রয়েছে তাদের কে একটা গ্রাম বলা যায়।

সাধারণত গ্রাম যেমন ছোট হয় আয়তনে তেমনি ইন্টারনেটের এই যায়গা টাও ছোট। আপনি নির্দিষ্ট কাউকে সহজেই এখানে খুজে পাবেন। আর আধুনিক সকল প্রযুক্তি গুলো বর্তমানে বিশ্ব কে একটা গ্রামে রুপান্তর করেছে। আপনি যখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেটে ঢুকছেন আপনিও একজন বিশ্বগ্রামের অংশ হয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বগ্রাম কি সেটা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

বিশ্বগ্রাম কাকে বলে

বিশ্বের যে কোনো স্থানে বসে অল্প সময়ের মধ্যে যে কারো সাথে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া কে মূলত বিশ্বগ্রাম বলা হয়। এখানে কোনো যাতায়াত খরচ ছাড়া যে কারো সাথে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন। সাধারণ একটা গ্রামে বাস করতে গেলে যে সকল সুবিধার প্রয়োজন রয়েছে তার সব গুলোই বিশ্বগ্রামের মধ্যে আছে।

গ্রামে কি থাকে একটি বাজার, মানুষের সাথে যোগাযোগ আড্ডা ইত্যাদি এসব কিন্তু এখন প্রযুক্তি ব্যাবহার করে অনলাইনেই সব সম্ভব। বিনোদনের প্রধান একটি যায়গা বর্তমানে ইন্টারনেট। যেখানে বাসায় বসেই সকল ধরনের বিনোদন সুবিধা ভোগ করা যায়। আপনাকে কস্ট করে বাজার করতে যেতে হবে বিশ্বগ্রামের মধ্যে আপনি অনেক বাজার পেয়ে যাবেন যেখানে অর্ডার করা পন্য আপনার বাসা পর্যন্ত পৌছে যাবে।

📌 আরো পড়ুন 👇

তো যাইহোক , ইন্টারনেট এর মাধ্যমে এ সকল সেবা গুলো ব্যবহার করার জন্য আপনাকে বিশ্বগ্রামে যুক্ত হতে হবে। আর বিশ্বগ্রামে যুক্ত হতে আপনার একটি ডিজিটাল প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট কানেকসন প্রয়োজন। তবে এখনো অনেকেই এসএমএস প্রযুক্তি ব্যাবহার করেন যোগাযোগ এর ক্ষেত্রে যেটাতে কোনো ধরণের ইন্টারনেট কানেকসন এর প্রয়োজন পরে না। তো আপনাদের কে সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করলাম বিশ্বগ্রাম কাকে বলে আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

বিশ্বগ্রাম এর জনক কে

লন্ডের একজন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও দার্শনিক হাবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান সর্বপ্রথম বিশ্বগ্রামের জনক ছিলেন।

জানা যায় বিশ্বগ্রাম আবিস্কার হওয়ার ৩০ বছর পূর্বেই এটা নিয়ে বই রচনা করেছিলেন। অসাধারন এই দার্শনিক জন্মগ্রহণ করেছিলেন ২১ জুলাই ১৯৯১ সালে। এবং তিনি ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮০ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

হাবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান এর কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য কাজ হলো

  •       দ্যা মিডিয়াম ইজ দ্য মেসেজ
  •       বিশ্বগ্রাম
  •       ফিগার এন্ড গ্রাউন্ড মিডিয়া
  •       হট এন্ড কুল মিডিয়া
  •       টেট্রাড অব মিডিয়া ইফেক্টস

বিশ্বগ্রাম এর সুবিধা

বিশ্বগ্রামের সুবিধা ও অসুবিধা

বিশ্বগ্রাম ব্যবহার করে অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। বর্তমানে তো মানুষ এত পরিমানে বিশ্বগ্রামের দিকে ঝুকেছে একটি দিন ও কল্পনা করা যায় না বিশ্বগ্রাম ছাড়া। নিচে আমরা বেশ কয়েকটি বিশ্বগ্রামের সুবিধা দিলাম

১। অল্প খরচে যোগাযোগ

ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো প্রান্তে যোগাযোগ করার জন্য আপনাকে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে না। এখানে আপনার কাছে ইন্টারনেট খরচ থাকলে আপনি যত ইচ্ছা যোগাযোগ করতে পারবেন। বিশ্বগ্রাম যোগাযোগ ব্যাবস্থায় খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছে যা অনেক বড় একটি সুবিধা বিশ্বগ্রাম এর।

২। স্বল্প সময়ে যোগাযোগ

একটা সময় ছিল যখন মানুষ সংকেত ব্যবহার করে একে অপরের সাথে দূর দূরান্তে যোগাযোগ করতো। এর পরে প্রযুক্তির কারণে একের পর এক পদ্ধতি আসে। তবে সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছড়ায় বিশ্বগ্রাম যেখানে যোগাযোগ এর পাশাপাশি ভিডিও কলিং ফিচার যুক্ত করার ফলে কথা বলার পাশাপাশি দেখাও সম্ভব।

৩। তথ্যের উৎস

বর্তমানে তথ্যের একটি বড় ভান্ডার হিসেবে কাজ করে বিশ্বগ্রাম। আচ্ছা যদি আপনাকে বলি পলাশি যুদ্ধের সম্পূর্ণ ইতিহাস আপনাকে ২ মিনিটের মধ্যে খুজে দেন। তাহলে আপনাকে আগে বই খুজতে হবে এরপরে সঠিক তথ্য টি সেখান থেকে খুজে বের করতে অনেক বেশি সময় লেগে যাবে। তবে ইন্টারনেটের কল্যানে যে কোনো তথ্য আমরা কয়েক সেকেন্ডেই বের করে নিতে পারি।

৪। ব্যবসা বানিজ্যের বিস্তার

বিশ্বগ্রামে যেহেতু বিশ্বের সকলেই থাকে তাই সেখানে বিজনেস করা একদম সহজ হয়ে যাচ্ছে যেটা কে মুলত ডিজিটাল মার্কেটিং বলে যা আমরা অন্য কোনো আর্টিকেলে আপনাদের জানাবো।

৫। লেনদেন ব্যাবস্থা

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো সহজ ভাবে বিশ্বের যে কোনো স্থানে খুব অল্প সময়ের মধ্যে লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা লেনদেন ব্যবস্থা কে আরো সুরক্ষিত করেছে।

৬। প্রযুক্তির ব্যাবহার

নতুন প্রযুক্তি আবিস্কার ও এর ব্যবহার সম্পর্কে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতা বেড়েছে। যেখানে বিশ্বগ্রামের অনেক বড় অবদান রয়েছে।

৭। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বগ্রাম

বিশ্বগ্রাম শুধু মাত্র যোগাযোগে সীমাবদ্ধ নয় বরং শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধা প্রদান করতে সক্ষম বিশ্বগ্রাম। এখন ঘরে বসে মানুষ তার শিক্ষা গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারে। যেমন টা আমরা দেখেছি ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপি করোনা প্যান্ডামিক এর সময়ে।

৮। চিকিসা সেবার ক্ষেত্রে

উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষের এখন আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন পরে না। ঘরে বসেই টেলিমেডিসিন সেবা ব্যবহার করার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎতসা সুবিধা ভোগ করতে পারে।

এ ছাড়াও বিশ্বগ্রামের নানান সুবিধা আমরা প্রত্যাহিক জীবনে ব্যবহার করে থাকি। এখানে, এতো পরিমানে সুবিধা যে মানুষ দিন দিন এটাকে অভ্যাসে পরিনত করছে আর যার ফলে কিছু অসুবিধার দিক ও আমাদের সামনে চলে আসে।

বিশ্বগ্রামের অসুবিধা

বিশ্বগ্রামের যেমন অনেক সুবিধা আছে তেমনি আছে অসুবিধাম ও নিচে আমরা কয়েকটি অসুবিধা তুলে ধরলাম

১। ভুয়া সংবাদ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সত্যিকারের সংবাদের আড়ালে ভুয়া সংবাদ বা গুজব ছড়িয়ে যায় খুব তারাতারি বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে বেশিরভাগ মানুষ এসব বিশ্বাস করে আর ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।

২। ব্যাক্তিগত তথ্য ফাস

বিশ্বগ্রামে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আপনার ব্যাক্তিগত সকল তথ্য তৃতীয় কোনো ব্যাক্তির কাছে জমা রাখতে হয়। যার ফলে প্রত্যকের প্রাইভেসি টা নস্ট হয়ে যায়।

৩। সাইবার আক্রমন

বর্তমানে সব কিছু অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় সাইবার আক্রমনের মাধ্যমে অসাধু ব্যাক্তিরা ভিকটিমের তথ্য সহ সকল কিছু হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

৪। সেবা নিয়ন্ত্রন

ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু অঞ্চল বা দেশে অনেক সুবিধা প্রদান আবার কিছু দেশের জন্য কম সুবিধা প্রদান। অর্থ্যাত ডিজিটাল বিভেদ তৈরি হয় বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে।

৫। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন

বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে সহজেই মানুষ একে অপরের সাংস্কৃতিক অবস্থা দেখতে পারে। এর ফলে অনেকেই নিজের সাংস্কৃতি ভুলে অন্য সাংস্কৃতিতে উদ্ভুদ্ব হতে পারে।

তো যাইহোক, এসব ছাড়াও অনেক সমস্যা দাড় করানো যাবে যা বিশ্বগ্রাম কে বাধা দিবে। তবে এখন পর্যন্ত মানুষ সুবিধা অসুবিধা দুটো দিক নিয়েই মানুষ বিশ্বগ্রামের প্রতি আকৃষ্ট।

বিশ্বগ্রামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কি

বিশ্বগ্রামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্য। অনেকেই ভাবেন যে বিশ্বগ্রামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে অনেক ব্যাখা থাকতে পারে তবে বর্তমানে বিশ্বগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্য। বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অপর একটি মানুষের তথ্যের পাশাপাশি আপনি যোগাযোগ সহ সব কিছুই করতে পারছেন।

বিশ্বগ্রাম ছোট একটা আয়তন হলেও এটাকে আরো বেশি ছোট ও ব্যবহার যোগ্য করেছে সোশ্যাল মিডিয়া। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট স্থানের জন্য আলাদা আলাদা ভাগ করে দেয়া হয়। আর এখান থেকে তথ্য উপাত্ত গুলো বিভিন্ন ভাষায় সহজেই খুজে পাওয়া সম্ভব হয়ে থাকে।

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ কী কী

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য কিছু উপাদান এর প্রয়োজন হয়। যা নিচে দিয়ে দিলাম

১। হার্ডওয়্যার

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য সবার প্রথমেই আপনার হার্ডওয়্যার লাগবে। হার্ডওয়্যার সাধারণত কম্পিউটার, মোবাইল, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি।

২। নেটওয়ার্ক

বিশ্বগ্রামের প্রধান হলো নেটওয়ার্ক। যদি হার্ডওয়্যার কে নেটওয়ার্কে যুক্ত করা না যায় তাহলে হার্ডওয়্যার দিয়ে বিশ্বগ্রামে ঢুকা সম্ভব নয়। নেটওয়ার্ক কে বিশ্বগ্রামের মেরুদন্ড ও বলা হয়ে থাকে।

৩। সফটওয়্যার

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক এর পাশাপাশি সফটওয়্যার এর অনেক বেশি গুরুত্ব রয়েছে। সফটওয়্যার এর মাধ্যমেই মূলত হার্ডওয়্যার গুলোকে সচল রাখা হয়ে থাকে।

৪। ডেটা বা তথ্য

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একে অপরের ডেটা গুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ যা দিয়ে বিশ্বগ্রামে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

৫। মানুষের ব্যবহার

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য উপরের উপাদান গুলো সম্পর্কে মানুষের ব্যবহারের সক্ষমতা থাকতে হবে। যদি মানুষ এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে না জানে বা ব্যবহার করতে না বুঝে তবে বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠা করা কখনো সম্ভব নয়।

বিশ্বগ্রাম হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যাবস্থা ব্যাখ্যা করো

বর্তমানে যুগ হলো তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর একটি যুগ। বিশ্বগ্রাম বা গ্লোভাল ভিলেজ ইন্টারনেট কে একটি ছোট আয়তনে পরিনত করেছে। যেখান থেকে সহজেই মানুষ একে অপরের সাথে যোগাযোগ ব্যাবস্থা থেকে শুরু করে সকল কিছুর সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারছে। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করে থাকে। বিশ্বগ্রাম একমাত্র ইন্টারনেট ব্যাবস্থা যা মানুষের জীবন কে অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছে।

বিশ্বগ্রামের উপাদান কি কি

আমরা পূর্বেই বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদান গুলো সম্পর্কে জেনেছি। এবার চলুন জেনে নেই কি কি উপাদান বিশ্বগ্রামে পাওয়া যায়

১। যোগাযোগ ব্যাবস্থা

যোগাযোগ ব্যাবস্থা বিশ্বগ্রামের অন্যতম প্রধান একটি উপাদান বিশ্বগ্রামের। বিশ্বগ্রামের মাধ্যমে সহজেই বিশ্বের যে কোনো স্থানে অল্প সময়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায়। বিশ্ব কে এখন হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে বিশ্বগ্রাম। এখন এই যোগাযোগ ব্যাবস্থা কে আবার দুই ভাবে বিভক্ত করা হয় –

  1.     টেলিযোগাযোগ ব্যাবস্থা
  2.     তথ্য যোগাযোগ ব্যাবস্থা

টেলিযোগাযোগ ব্যাবস্থা টেলিযোগাযোগ ব্যাবস্থায় মূলত কাজ করে রেডিও, টেলিভিশন, টেলিফোন ইত্যাদি।

তথ্য যোগাযোগ ব্যাবস্থা ইমেইল, ভিডিও কনফারারেন্স ইত্যাদি যোগাযোগ ব্যাবস্থা কে মূলত তথ্য যোগাযোগ ব্যাবস্থা বলে।

২। বিনোদন মাধ্যম

বর্তমানে মানুষের অন্যতম সেরা বিনোদনের মাধ্যমে হলো অনলাইন। এখন সিনেমা হল গুলোতেও মানুষের ভিড় নেই কারন সব ধরণের সিনেমা সহ সব কিছুই বিশ্বগ্রামের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

৩। নিউজ

বর্তমানে বিশ্বের সকল নিউজ দেখা যায় স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট মাধ্যম ব্যাবহার করে। যার ফলে এখন মোবাইল ব্যবহার করেও যে কোনো স্থানে বসে সরাসরি নিউজ দেখতে পারা যায়।

৪। ওয়ার্ক ফ্রম হোম

বর্তমানে মানুষ রিমোটলি কাজ করছে বাসায় বসে। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে চাকরির সুজোগ তৈরি হচ্ছে। আবার অনেকেই অফিসে না গিয়েও বাসায় বসেই অফিসের সকল কাজ গুলো সম্পন্ন করতে পারছে।

৫। গবেষনায় বিশ্বগ্রাম

আগে মানুষ বছরের পর বছর গবেষনা করে কোনো কিছু আবিস্কার করতে সক্ষম। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা প্রশাখায় ছড়িয়ে আছে প্রযুক্তি সেবা। আর এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন গবেষনা করা সম্ভব হচ্ছে।

৬। ব্যাবসার প্রসার

কিছু বছর পূর্বে কোনো কোম্পানির পন্যের প্রচারনার জন্য মানুষের কাছে যেয়ে সেটার বৈশিষ্ট সম্পর্কে বুঝাতে হতো। টেলিভিসনে বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে প্রচারণা ছিল অনেক বেশি ব্যায়বহুল। তবে বর্তমানে বিশ্বগ্রামের আওতায় ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে একদম শুন্য থেকে শুরু করে মানুষ সফলতা পাচ্ছে।

৭। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বগ্রাম

শিক্ষা ক্ষেত্রে কে ব্যাপক অগ্রসর করেছে বিশ্বগ্রাম। ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন বিষয় খুব সহজেই অনলাইন থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারে। দেশ অথবা বিদেশের সেরা শিক্ষক দের লেকচার বাসায় বসেই দেখতে পারে।

📌 আরো পড়ুন 👇

এ ছাড়াও বিশ্বগ্রাম আমাদের দৈনিক জীবনের সাথে নানান ভাবে জড়িত। আমরা যারা বিশ্বগ্রামের আওতায় রয়েছি একটা দিন হয়তো এসব ছাড়া থাকা অসম্ভব হয়ে পরে। বিশ্বগ্রাম ছিল আধুনিক বিশ্ব গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। যা আমরা দিন দিন উপলব্ধি করতে পারছি।

বিশ্বগ্রামের ধারণা কত সালে রুপ নেয়

গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর এমন একটি সামাজিক মাধ্যম যেখানে পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই তাদের চিন্তা-ভাবনা,সংস্কৃতি-কৃষ্টি ইত্যাদি একে অপরকে জানিয়ে থাকে। এই ধারণার প্রবর্তক হলেন কানাডিয়ান দার্শনিক হাবার্ট মার্শাল ম্যালকুহান।

তিনি ৬০ এর দশকে প্রথম বারের মতো গ্লোভাল ভিলেজ শব্দ টি কে সবার সামনে তুলে ধরেন । এর পরে ১৯৬২ সালে তিনি প্রকাশিত করেন গুতেনবার্গ গ্যালাক্সি যেখানে তিনি এ সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত আন্ড্যারস্ট্যান্ডিং মিডিয়া বইয়ের মাধ্যমে সকলের মাঝে গ্লোভাল ভিলেজের গুরুত্ব ছড়িয়ে পরে।

বিশ্বগ্রামের মেরুদন্ড কি

বিশ্বগ্রামের মেরুদন্ড বলা হয় নেটওয়ার্ক কে বা কানেক্টিভিটি। মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য নেটওয়ার্ক এর প্রয়োজন পরে। প্রযুক্তির সকল ডিভাইস থাকলেও যদি নেটওয়ার্ক না থাকে তাহলে বিশ্বগ্রাম একদম অচল। তাই নেটওয়ার্কে মূলত বিশ্বগ্রামের মেরুদন্ড বলা হয়।

বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে আমাদের মতামত 

বিশ্বগ্রাম কি ও কাকে বলে আর্টিকেলে আমরা বিশ্বগ্রামের সকল কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয় মানুষের। একদিকে যেমন মানুষের কার্যক্ষমতা লোপ পাচ্ছে অন্যদিকে প্রযুক্তি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কার্যক্ষম হয়ে উঠছে। ধারণা করা হয় প্রযুক্তির কারনেই মানুষ একটা সময় পর অলস হয়ে যাবে। মস্তিস্কে জ্ঞানের চাহিদা থাকবে না।

আপনি কি মনে করেন বিশ্বগ্রামের ফলে মানুষের জীবনে কি কি সমস্যা নেমে আসতে পারে তা আমাদের মন্তব্য করে জানাতে পারেন। এতক্ষন ডিয়ার টেক ব্লগের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment